shartnewsbd@gmail.com রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

খাল পুনঃ খননে বদলে গেছে তালতলীর হাজারো কৃষকের ভাগ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০২ পিএম

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃ খননের ফলে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হয়েছে। এতে করে ওই ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, খালগুলো পুনঃ খননের ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলুমাঝি, সুন্দরিয়া, তাঁতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯টি খালের ১৯ কিলোমিটার পুনঃ খননের ফলে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হয়েছে। এতে করে ওই ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, খালগুলো পুনঃ খননের ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া, চিলুমাঝি, সুন্দরিয়া, তাঁতীপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়াসহ মোট ৯টি খাল দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে ছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকদের বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাষের জমি ডুবে যেত, নষ্ট হতো ক্ষেতের ফসল। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ভাঙাচোরা রাস্তার দুর্ভোগ—কৃষিপণ্য পরিবহনে কৃষকদের পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। এই দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির মাধ্যমে ৯টি খালের ১৯ কিলোমিটার অংশ পুনঃ খনন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি নতুন রাস্তা নির্মাণ করায় যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন হয়েছে।

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালননড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন

নলবুনিয়া-আগাপাড়া এলাকার কৃষক জালাল, এমাদুল ও মজিবরসহ একাধিক স্থানীয়রা বলেন, “কিছুদিন আগেও খালগুলো ডোবা-নালার মতো হয়ে পড়েছিল। গ্রামের লোকজন সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলত। ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যেত, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি তৈরি হতো। দুর্গন্ধের কারণে চলাচলও কঠিন ছিল। এখন খাল খননের ফলে পরিবেশ যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি আমরা কৃষকরাও উপকৃত হবো।

তাঁতীপাড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল জোমাদ্দার বলেন, “পানির অভাবে আগে শুধু বর্ষায় একবার ধান চাষ করতে পারতাম। এখন সেচের সুবিধা পাওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এতে বেকারত্ব কমবে এবং আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবো। সরকার যেন এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত রাখে—এটাই আমাদের দাবি।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “নলবুনিয়া সমবায় সমিতির মাধ্যমে খালগুলো পুনঃ খননের ফলে কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং বেকারত্ব কমবে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, “প্রকল্প অনুযায়ী খালগুলো যথাযথভাবে পুনঃ খনন করা হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, “গ্রীষ্মে পানির অভাব এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে এতদিন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতো। এখন খাল পুনঃ খননের ফলে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা কমেছে। ফলে কৃষকরা বছরে একাধিকবার ফসল ফলাতে পারবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

এমএসএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর