নিষিদ্ধ কন্টেন্ট দেখাতে বিশেষ পোর্টাল আনছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এমন একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করছে যেখানে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ করা কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু প্রদর্শিত হবে। এই পোর্টালটি ‘freedom.gov’ ডোমেইনে হোস্ট করা হবে। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে বেশ কিছু অজ্ঞাত সূত্র জানিয়েছে, এই পোর্টালে একটি ইন-বিল্ট ভিপিএন সুবিধা থাকবে, যার ফলে ব্যবহারকারীর অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে দেখাবে। একটি সূত্রের দাবি, এই পোর্টালটি ব্যবহারকারীর
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এমন একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করছে যেখানে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ করা কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু প্রদর্শিত হবে। এই পোর্টালটি ‘freedom.gov’ ডোমেইনে হোস্ট করা হবে। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে বেশ কিছু অজ্ঞাত সূত্র জানিয়েছে, এই পোর্টালে একটি ইন-বিল্ট ভিপিএন সুবিধা থাকবে, যার ফলে ব্যবহারকারীর অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে দেখাবে। একটি সূত্রের দাবি, এই পোর্টালটি ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য বা অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করবে না।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানান, ডিজিটাল স্বাধীনতা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এর মধ্যে প্রাইভেসী রক্ষা ও সেন্সরশিপ এড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ভিপিএন-এর প্রসার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সামরিক শাসন জারির খেসারত, আমৃত্যু কারাবাসে ইউনসামরিক শাসন জারির খেসারত, আমৃত্যু কারাবাসে ইউন
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও বিলম্ব: স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডারসেক্রেটারি সারাহ রজার্সের নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। ধারণা করা হয়েছিল, মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এটি ঘোষণা করা হবে; কিন্তু পরবর্তীতে তা পিছিয়ে দেয়া হয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মী ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু উদ্বেগের কারণে এই বিলম্ব কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই পোর্টালটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার মিত্র দেশগুলোর সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে, যা ইতোমধ্যেই বাণিজ্য বিরোধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মতভেদ এবং গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কারণে ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত মানুষকে তাদের স্থানীয় আইন লঙ্ঘনে উৎসাহিত করবে, যা মিত্র দেশগুলোকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে।
ইউরোপীয় নীতি: গত ১২ জানুয়ারি ‘freedom.gov’ ডোমেইনটি নিবন্ধিত হয়েছে। বর্তমানে এতে কোনো কন্টেন্ট নেই; কেবল ন্যাশনাল ডিজাইন স্টুডিওর লোগো, ফ্লাই, ঈগল, ফ্লাই’ লেখাটি এবং একটি লগ-ইন ফর্ম দেখা যাচ্ছে। সাধারণ বাণিজ্যিক ভিপিএন থেকে এটি কতটা আলাদা হবে তা এখনো অস্পষ্ট।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হলেও তাদের 'ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট' এবং ব্রিটেনের 'অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট'-এর মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো বা উগ্র ডানপন্থী প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে।
এই আইনগুলো নিয়েই মাস্ক, জাকারবার্গ বা থিয়েলের মতো সিলিকন ভ্যালি জায়ান্টদের সাথে ইইউর বিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি সভ্যতা বিলুপ্তির সংকটে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়।
সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী!সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী!
ডিজিটাল শাসনের নতুন সংঘাত: বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিজিটাল শাসনব্যবস্থায় তিনটি প্রধান ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের বাজার-কেন্দ্রিক মডেল, ইউরোপের মানব-কেন্দ্রিক রেগুলেটরি মডেল এবং রাশিয়া-চীনের স্বৈরতান্ত্রিক ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মডেল।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক ও পুরোনো আমলতন্ত্রের সাথে মার্কিন টেক জায়ান্টদের মতো নতুন অর্থনৈতিক শক্তির সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ইউনিফাইড ডিজিটাল আইডি ফ্রেমওয়ার্কের প্রচারণা চালাচ্ছে, যাকে নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলো আমলা-কেন্দ্রিক বলে সমালোচনা করছে।
এমএসএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: