প্রতারণা, জমি দখল ও হয়রানি—বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জমি দখল এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, জমি দখল এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক সেনা সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবুল কালাম আজাদ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি ও ব্যাংক ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন। গরুর খামারের জন্য ঢাকা ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০২২ সালে তার কাছ থেকে তিন দফায় মোট ২৩ লাখ টাকা নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ঋণের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, টাকা ফেরতের দাবিতে একাধিকবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক ভুক্তভোগী মো. গোলাম আজম অভিযোগ করেন, তার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসের সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি ও বসতবাড়ির দলিল নিজের নামে করে নেন আবুল কালাম আজাদ। পরে আদালত ওই দলিল বাতিল ঘোষণা করলেও এখনো তিনি সম্পত্তির দখল ছাড়েননি।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা হুমকি, ভয়ভীতি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাদের নিজস্ব ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টাও করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি করেন তারা। প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও আশ্বাস ছাড়া বাস্তব পদক্ষেপ পাননি বলেও উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করার দাবি জানান তারা।
এমএসআই

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: